দেশে মুক্ত সাংবাদিকতার বিকাশ হোক

আবদুল কাদের খান

“খুলনায় অনেক দাপটে পত্রিকার পাশাপাশি ‘খুলনা গেজেট’ যখন প্রকাশিত হলো, তখন দেশ ছিলো সাংঘাতিকভাবে অগোছালো! জুলাই বিপ্লবের ধ্বংস স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রতিদিন সকালে একটি ঝকঝকে তকতকে পত্রিকা প্রকাশনার দায় মাথায় নিয়ে কঠিন দায়িত্ব পালনে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকার পালন করেন গেজেট কর্মীরা। গণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি কঠিন ভালোবাসার স্বাক্ষর রেখেছেন তারা গত এক বছর ধরে।”

‘খুলনা গেজেট’ প্রকাশনা আগামীকাল ২৭ আগস্ট, ২০২৬ – দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করবে। নানা চড়াই- উৎরাই পেরিয়ে গেল বছরের এই দিন এই মুখপাত্রটি এই অঞ্চলের আপামর মানুষের দাবি-দাওয়া, আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র এক বছরেই যথেষ্ট সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে, খুলনা গেজেট সকল মহলের প্রশংসা ধন্য একটি নন্দিত পত্রিকা হিসেবে সমধিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। পাঠক শুভানুধ্যায়ীরা জানিয়েছেন, মাত্র চার পাতার এ সংবাদপত্রটি প্রতিদিন সর্বশেষ সংবাদটি বুকে ধারণ করে প্রকাশিত হয়। খেলার খবর, চলচ্চিত্র অঙ্গনের খবর, সাহিত্য সংস্কৃতির পাতা, চলমান রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ, আন্তর্জাতিক সংবাদের সারসংক্ষেপ, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দৈনন্দিন নামাজের সময়সূচি, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর সম্পাদকীয়- উপসম্পাদকীয় নিয়মিত কলাম; দূর গ্রামাঞ্চলের মানুষের অভাব অভিযোগ, দুঃখ দুর্দশা, দাবিও চাহিদার খবর, বাজারদর, স্বাস্থ্য শিক্ষা সচেতনতামূলক প্রতিবেদন- সবই নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে খুলনা গেজেট-এ।

এই পত্রিকাটি প্রথম বর্ষে প্রকাশনার সময় সম্পাদকের অঙ্গীকার ছিল –
‘যা দেখবো, বস্তুনিষ্ঠ হলে, সে তথ্যটি অবশ্যই অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে দেশ ও সমাজের কাছে নির্ভয়ে তুলে ধরবো।’ সম্পাদক তাঁর দেওয়া অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন, অক্ষরে অক্ষরে। এক ঝাঁক চটপটে সাংবাদিক খুলনা গেজেটকে যেভাবে গত এক বছর ধরে সুন্দরভাবে প্রস্ফূটিত করেছেন, তার জন্য তাদের প্রতি রইল মিষ্টি শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন।

প্রথম বর্ষপূর্তি সংখ্যায় লেখার জন্য আমার একান্ত প্রিয়জন, গাজী আলাউদ্দিন আহমেদ আমাকে যে আন্তরিক তাগাদা দিয়েছেন, তা’ আমি আমৃত্যু মনে রাখবো। একটি সংবাদপত্র প্রকাশনার ব্যয়ভার, এর বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত সাংবাদিকদের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা কাল দ্বিতীয় বর্ষে পা রাখতে পত্রিকাটিকে যথেষ্ট সহায়তা করেছে। এই মুহূর্তে সে কৃতজ্ঞতাটুকু প্রকাশ করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা প্রকাশ করতে নারাজ।

ব্যাঘ্র তটভূমি, সুন্দরবনের বিশাল প্রকৃতি, রাজ্যের কোল ঘেঁষে দাঁড়ানো বিভাগীয় শহর খুলনায় অনেক দাপটে পত্রিকার পাশাপাশি এই পত্রিকাটি যখন প্রকাশিত হলো, তখন দেশটি সাংঘাতিকভাবে অগোছালো। ২৪ জুলাই বিপ্লবের ধ্বংস স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সমস্যা জর্জরিত একটি দেশে প্রতিদিন সকালে একটি ঝকঝকে তকতকে পত্রিকা প্রকাশনার দায় মাথায় নিয়ে যাঁরা এই কঠিন দায়িত্ব পালনে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকার পালন করেন, তাদের দেশপ্রেম, গণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি কঠিন ভালোবাসার স্বাক্ষর রেখেছেন গত এক বছর ধরে।

১.০২ : যে কথা বলতে চাচ্ছিলাম, একটি সংবাদপত্র প্রকাশনা যত সহজ, তাকে বাঁচিয়ে রাখা ততই কঠিন। এই সংবাদপত্র সংসারে যারা আছেন, তারা বেশ ভালো করেই একথা জানেন। সংবাদপত্র প্রকাশের পর যে সংবাদ পরিবেশিত হয়, তা’ কোনো না কোনোভাবে, একটি পক্ষের বিরুদ্ধে যায়, তাতে সংবাদপত্রের রিপোর্টার বা প্রতিবেদক ক্ষেত্র বিশেষে কোনো না কোনো মহলের চক্ষুশূল হন। প্রভাবশালী মহল প্রকাশিত সংবাদ তাদের অনুকূলে না যাওয়ায়, রক্তচক্ষু দেখিয়ে সাংবাদিককে রীতিমতো শাসিয়ে সতর্ক করে দেন।

দৈনন্দিন জীবনে একজন সাংবাদিক প্রতিদিনের ফলিত ইতিহাস-
এই সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশের জন্য – বিরুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে, কত দুর্যোগ চ্যালেঞ্জ করে, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা অন্যায় অনাচার অনিয়মের কথা দুঃসাহসে ভর করে তুলে ধরেন। সংবাদ প্রকাশের পর যে মহলটি অন্যায় অনাচার জুলুমের সাথে জড়িত তারা সাংবাদিককে শুধু শাসিয়ে ক্ষান্ত হন না, বরং নিজেদের প্রভাব ও দাপটে নিরীহ সাংবাদিককে রক্তচক্ষু দেখানোর পর প্রাণনাশের হুমকিও দেয়, সংঘবদ্ধভাবে লাঠিয়াল দিয়ে হামলা করে রক্তাক্ত করে। তবুও সাংবাদিক মানবাধিকার সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করে চলেন। তাই বলা হয়, সাংবাদিক নিয়ত নিঃসঙ্গ, এই পেশায় তার কোনো বন্ধু নেই!

শুধু দেশে নয় বিদেশেও সাংবাদিকতা বস্তুনিষ্ঠ আপোশহীন সংবাদ পরিবেশনের জন্য প্রায়শ সাংবাদিককে উচ্চ মূল্য দিতে হয়। তিন দশক আগের কথা ডেভিড হোল্ডেন বিবিসির সহ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশের সাংবাদিক ছিলেন, আরব ইসরায়েলের উত্তপ্ত লড়াইয়ে ঘোলা পানি পরিষ্কার করার জন্য সাংবাদিকতার রণাঙ্গনে তিনি জীবন বিসর্জন দেন। এত ঘটনার পরও সাংবাদিকতা সারাবিশ্বে একটি নন্দিত সম্মানজনক ঈর্ষণীয় পেশা।

মার্কিন মুল্লুকের কথা বলি, জ্যাক অ্যান্ডারসন এবং বব উডওয়ার্ড নামক দুই দুঃসাহসী সাংবাদিক মার্কিন ময়ূর সিংহাসনের মালিক রিচার্ড নিক্সনকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল–ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির কাহিনি ফাঁস করে! নিকট অতীতের কথা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিংটন এবং তার পরকীয়া প্রেমিকা মনিকা লিওনিস্কির ডুব সাঁতার পরকীয়া কেলেঙ্কারি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। অল্পের জন্য বিল ক্লিনটন অভিশংসনের পথে এগিয়ে যান শুধু বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার লেখনীর কারণে। ইংল্যান্ডে প্রফুমা কেলেঙ্কারি সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। শুধু অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে। স্বদেশে নিকট অতীতের কাহিনি, সাতক্ষীরা থেকে নির্বাচিত জামাতে ইসলামীর একজন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িয়ে, নানা অপবাদ মাথায় নিয়ে দল থেকে প্রথমে বহিষ্কার হন এবং এমপি পদ হারান। সবই সাংবাদিকতার তেলেসমাতির কারণে।

বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া যদিও সাংবাদিকতাকে এক উচ্চতর মাত্রা দিয়েছে, তবুও প্রিন্ট মিডিয়াকে মাড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবে সম্ভব নয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তান আমলে দৈনিক আজাদ এর আকরাম খাঁ, দৈনিক ইত্তেফাক এর তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, নবগঠিত প্রেস ইনস্টিটিউট চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সম্পাদক সাংবাদিক আবদুস সালাম, জহুর হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ মোদাব্বের, সিরাজউদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, আহমেদুর রহমান (ভিমরুল), নির্মল সেন, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, আমানুল্লাহ কবির, আহমেদ হুমায়ুন, ফয়েজ আহমেদ, কবি আল মাহমুদ ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন।

অনেকে বলেন, লিখে কী হয়? ওদেরকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে, দেশের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের তৎকালীন কালজয়ী প্রেসিডেন্ট দুঃসাহসী সাংবাদিক চিরকুমার নির্মল সেন নিয়মিত কলাম লিখতেন, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অনিকেত ছদ্মনামে! তার কলাম ছিল অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত খর ও ক্ষুরধার। একবার নির্মল সেন লিখলেন, “এই মুহূর্তে সাহস করে কিছু বলা দরকার, অনিকেত।”

ইত্তেফাক এর কালজয়ী সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সাংবাদিকতা করতে গিয়ে, পাকিস্তান আমলে মুসাফির ছদ্মনামে রাজনৈতিক মঞ্চ নিয়মিত কলাম লেখার অপরাধে আইয়ুব খানের রোষানলে পড়েন। পাকিস্তান সরকারের ৯২ ক ধারায় নিরাপত্তা আইনে তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাবন্দি করা হয়। ১৯৭২ সালে গণকণ্ঠ সম্পাদক কবি আল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাগলা ঘণ্টা বাজিয়ে শেখ মুজিবের ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে মারপিট ও জুলুম করা হয়। সাম্প্রতিককালে আমার দেশ সম্পাদক দুঃসাহসী মজলুম সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে হাসিনা সরকার ভিন্ন মতের মানুষকে ফাঁসি দেওয়ার মামলার গোপন কেলেঙ্কারি ফাঁস করায় আমার দেশ পত্রিকা অফিস জ্বালিয়ে দেয়। সরকারের একটি এজেন্সি আমার দেশ পত্রিকার মেশিনপত্র উঠিয়ে নিয়ে অফিস তালাবদ্ধ করে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নামে সারাদেশে অসংখ্য গায়েবি মামলা রুজু করে।

১.০৩ : সাংবাদিকতা পেশায় পুরস্কারের চাইতে তিরস্কার বেশি জুটলেও দেশের সাংবাদিকতার অতীত পর্যালোচনা করলে, গৌরবের চিত্রই ফুটে ওঠে।

হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দায়ে দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক অশীতিপর বৃদ্ধ আবুল আসাদকে অপমানজনকভাবে গ্রেপ্তার করে টেনে হিঁচড়ে কারাগারে নিক্ষেপ ও নির্মম জুলুম করে। ভিন্ন মতের সাংবাদিকতা দমনের জন্য অনেক দালাল সাংবাদিক গণমানুষের সাথে সম্পৃক্ত দেশপ্রেমিক সাংবাদিকদের উপর অত্যাচারের স্টিম রুলার চালায়, সরকারের বিশেষ সংস্থা এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে। সাংবাদিক নেতা শফিক রেহমান, গাজী রুহুল আমিনকে বেঁচে থাকা অবস্থায় নানা নিগ্রহের শিকার হতে হয়। ক্যান্সারের রোগী হওয়া সত্ত্বেও তার ভয়ে সরকার তাকে প্রতি মুহূর্তে মুহূর্তে এক জেল থেকে অন্য জেলে চালান দেন।

একটি কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা দরকার! সংবিধানে ৩৯ ক ধারায় নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা স্বিতৃত হলেও বাংলাদেশে সংবাদপত্রে মত প্রকাশের দায়ে গত পঞ্চান্ন বছরে ও সাংবাদিক লাঞ্ছিত নিগৃহীত ও জেল জুলুম ও নৃশংস হামলার শিকার হয়ে নিরুপায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইতিহাস তার সাক্ষী। ২৪ এর গণ বিপ্লবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সাংবাদিকতা করার জন্য রাজপথে ছুটে গেছেন জীবন হারিয়েছেন, রাষ্ট্র তাদের কথা একটুও মনে রাখেনি। এই পেশায় চাকরি শেষে খালি হাতে ঘরে ফিরে যেতে হয়। অদ্ভুত এক পেশা তাই না? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে চলতি বছরের গেল ফেব্রুয়ারিতে যে সরকার এখন ক্ষমতাসীন, বলা বাহুল্য তারাও সংবিধানে স্বীকৃত সাংবাদিকের পেশায় নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি। আমরা মনে করি, সাংবাদিকতার মান যাচাই করে, এই পেশার স্বীকৃতি, নিরাপত্তা এবং সাংবাদিকদের সরকারি প্রশাসনে যারা স্বেচ্ছাচারিতা দুর্নীতি; হর হামেশা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাদের মুখোশ খুলে দিতে মুক্ত সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা, সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্বের পর্যায়ে পড়ে। আমলাদের বিরুদ্ধে সরকারের প্রশাসন গতিশীল করতে হবে, এক্ষেত্রে মুক্ত সাংবাদিকতার বিকল্প নেই।

এই পেশায় যে ঝুঁকি রয়েছে, তা সমাজ দেশের প্রভাবশালী মহলের দ্বারা হয়ে থাকে। সেখানে সংবিধানের ধারা অনুযায়ী উচিত হবে, ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক সাংবাদিককে সর্বপ্রকার অনিয়ম উচ্ছেদে সহযোগিতা করা, তাদের লেখনীর স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ করা। প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা শঠ প্রতারক দুর্নীতিবাজ চক্রকে চিহ্নিত করতে হলে সাহসী বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকাশে এই মুহূর্তে সাংবাদিকের নিরাপত্তা বিধান ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০০৮- এর একটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে হলো-
‘সংবাদপত্রের সম্পাদক বা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কেউ মামলা করলেই সমন জারীর বিষয়ে বিচারকের আরো সংযত হওয়া উচিত বলেই মনে করেন।’ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, “সংবিধানের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংরক্ষণ করা আছে। বিভিন্ন আইনেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। গণমাধ্যম কর্মীরা সেই অধিকার প্রয়োগ করবেন এটাই স্বাভাবিক। তার মতে একজন সাংবাদিক তার প্রতিবেদনের মাধ্যমে সমাজের নানা ধরনের অন্যায় অপরাধ তুলে ধরবেন। প্রতিবেদন যে কারো বিরুদ্ধেই যেতে পারে। সেখানে কথায় কথায় মামলা করার কিছু নেই।”

বাসেত মজুমদার বলেন, “এমপি মন্ত্রীরা যদি দুর্নীতি ও ক্ষমতার অভাব ব্যবহার করেন, আর সাংবাদিক সেই দুর্নীতি তুলে ধরেন, এটাই স্বাভাবিক। এই দুর্নীতি তুলে ধরলে যদি এমপি বা মন্ত্রীরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন আর বিচারকও সেই মামলার সমন খুনি ছিনতাইকারী দাগি আসামির মতো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে জারি করে দেন, এটা কোনোভাবেই ঠিক নয়। এ বিষয়ে বিচারকদের আরো সংযত হতে হবে।” ভালোভাবে বিবেচনা করতে হবে কী অপরাধে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সমন দেবেন তিনি! তার মতে, যদি কোনো সাংবাদিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারো বিরুদ্ধে নিউজ করেন সেটা অপরাধ। আর তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করে, যদি কারো বিরুদ্ধে নিউজ করা হয়, সেটা কোনোভাবে অপরাধ হতে পারে না বরং যার বিরুদ্ধে নিউজটি করা হয়েছে, তার বিষয়েই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তার মতে, মামলা করে সাংবাদিকদের অহেতুক হয়রানির বিষয়ে আমাদের উচ্চ আদালত এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিতে পারে। ওই আদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা গ্রহণের আগে বিষয়টি আরো ভালোভাবে পর্যালোচনা করতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশনা দিতে পারে।

সত্য কথা বলতে কী, এ অবস্থায় ডেমো ক্লিস এর খাড়ার তলে, চোখে মুখে কালাে টেপ মেরে, হাত মস্তিষ্ক অচল করে, সাংবাদিকতা দেশের কোনো মঙ্গল করতে পারে না। দেশ প্রেমহীন উগ্র উসকানিমূলক সাংবাদিকতার আমরা বিপক্ষে, তবে সমাজ বদলের লক্ষ্যে বা অঙ্গীকারে দুঃসাহসী বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে যদি সরকার উৎসাহিত করতে পারে, পরমত সহিষ্ণুতার মাধ্যমে, তাহলে দেশের মানুষের কল্যাণে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সাংবাদিকতা আরো সমুন্নত হবে। সরকারের উচিত হবে সাংবাদিকদের পরিবেশিত তথ্য কাটিং, ক্লিপিং এর মাধ্যমে যাচাই করে যদি সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা থাকে, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকের কলমের স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করা।

উপসংহারে বলবো, স্বাধীন দেশের উপযোগী সাংবাদিকতা দেশের স্নায়ু কেন্দ্র গ্রাম থেকে গড়ে উঠুক। উপজেলা পর্যায়ে সরকারের তথ্য অফিস এবং সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে সাহসী সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করার জন্য তাদের পরিবেশিত সংবাদের মূল্যায়ন করা হোক। দেশে মুক্ত সাংবাদিকতা ধীরে ধীরে বিকশিত হোক।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

খুলনা গেজেট/এএজে




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন